প্রচ্ছদ দেশজুড়ে খুলনা বিভাগ কুমারঘাটায় নৌকা তৈরী কাজে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরীর কারিগররা

কুমারঘাটায় নৌকা তৈরী কাজে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরীর কারিগররা

19
0

যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমারঘাটা বাজারে ২৩/২৪ টি জায়গায় নৌকা তৈরী কাজে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরীর কারিগররা।

যুগের পর যুগ বাপ দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন এ সব কারিগররা। মনোহরপুর ইউনিয়নে কপালিয়া গ্রামের কার্তিক মন্ডল সাথে, তিনি জানান ডোঙা তৈরির কাজ করেন ৪০ বছর। প্রথমদিকে বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন তিনি। এরপর ২৭ বছর ধরে কাজ করছেন কুমারঘাটা বাজারে।

তিনি জানান , বংশ পরস্পরায় একাজ করছি। একটা ছেলে তাকেও শিখাইছি। ১০ টাকা থেকে শুরু করে এখন ৬০০ টাকা মজুরি পাই। সারা বছর কাজ চলে। বসে থাকা লাগে না। খুলনার কয়রা থেকে কুমারঘাটা বাজারে নৌকা বানাতে আসা মুজিবর রহমানের সাথে।

তিনি বলেন, তিনজনে মিলে দিনে একটা ডোঙা তৈরি করি। এক হাজার টাকা থেকে ৮০০ টাকা হাজিরা পাই। ছয় মাস এখানে করি। বাকি সময় মংলায় কাজ করি। এখন বর্ষা মৌসুম। মনিরামপুরের খাল বিলে পানি থই থই করছে। পানি জমে ফেঁপে উঠেছে এই অঞ্চলের মাছের ঘেরগুলো। এরই মধ্যে ধুম পড়েছে ডোঙা তৈরির। মাছের ঘেরে খাবার নেয়া, বিলে মাছধরা, লোক পারাপারসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয় ডোঙাগুলো। ডোঙা তৈরিতে অতি পরিচিত এখানকার কুমারঘাটা বাজার। বাজারে ২২-২৩টি ডোঙা তৈরির ঘর রয়েছে। যেখানে ব্যস্ত সময় খাটাচ্ছেন ৬০-৭০ শ্রমিক।

এই বাজার ছাড়াও উপজেলার নেহালপুর,কালিবাড়ী, মনোহরপুর,কুমারঘাটা ,কপালিয়া,ও কোনাকোলা এলাকায় চলে ডোঙা তৈরির কাজ। জ্যৈষ্ঠ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত তারা এখানে কাজ করেন। বাকি ছয় মাস কাজ করেন মংলা এলাকায়। আর স্থানীয় শ্রমিকরা এখানে কাজ করেন সারা বছর । এখন আমার ৬টা ঘরে ১৮ জন কাজ করে।

বাজারে ছয়জন মালিকের ২২-২৩টা ঘরে কাজ চলে। তিনি বলেন, ডোবা এলাকা। ফসল তেমন হয়না। সারা বছর খাল বিলে পানি থাকে। সব সময় ডোঙা বিক্রি হয়। ঘের মালিকরা কেনেন বেশি। বর্ষার চারমাস লোকজনের জিরেন (বিশ্রাম) থাকে না। একটা ডোঙায় দেড়-দুই হাজার টাকা লাভ থাকে।

খন্দকার তরিকুল ইসলাম